Creative Home Keeper

Creative Home Keeper – সৃজনশীল বাড়ির রক্ষকনাবেক্ষন

Creative Home Keeper – সৃজনশীল বাড়ির রক্ষকনাবেক্ষন

মানুষের রুচিশীলতার পরিচয় মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। যে যত বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সে তত বেশি উচ্চমার্গীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

Creative Home Keeperযদিও ঘর-বাড়ি প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা অনেক বেশি কষ্টের এবং সময়সাপেক্ষ। তাই জানালা, কিচেনের সিল্ক কিংবা বাথরুমের কোণের মতো ঘরের বিভিন্ন জায়গায় খুব সহজেই জমে যায় ময়লা। তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে এই কাজটি করা যায় খুব সহজে এবং কম সময়ে।

জেনে নেয়া যাক ঝটপট ঘর পরিষ্কার রাখার কিছু উপায়-

১ – জানালায় সহজেই ধুলো ময়লা পড়ে যায়। পরিষ্কার করার সময় হোয়াইট ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার কাপড়ে সামান্য ভিনেগার নিয়ে ভালো করে জানালার কাচ মুছে ফেলুন।

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার সাধারণত খয়েরি রঙের দেখতে হয়, তাই ব্যবহার করলে দাগ হয়ে যেতে পারে। সেজন্য হোয়াইট ভিনেগার ব্যবহার করাই ভাল।

২ – জানালার কাচ পরিষ্কার করার সময় ভিতরের অংশ আড়াআড়ি পরিষ্কার করুন। বাইরের অংশ লম্বালম্বিভাবে পরিষ্কার করুন। এতে জানালার কাচে মোছার দাগ থাকলেও বোঝা যাবে না।

বড় আঁকারের কাঁচ পরিস্কারের জন্য গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা একটু ব্যয়বহুল। তাই গ্লাস ক্লিনারের বদলে শ্যাম্পু মিশ্রিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।

৩ – দরজা বা জানালার ডাস্টার বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে প্রথমে ধুলো ঝেড়ে ফেলুন। দরজা বা জানালার পর্দায় ধুলো জমে থাকলে দেখতে খারাপ লাগে। পর্দা ভারি হলে ড্রাই ওয়াশে দিতে পারেন।

৪ – কাচ বা সিরামিকের বাটিতে চারভাগের একভাগ হোয়াইট ভিনেগার ও এক কাপ পানি মিশিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রাখুন। পাঁচ মিনিট হাইপাওয়ারে ওভেন চালান। ভিনেগার ও পানির মিশ্রণের বাষ্প ওভেনের ভেতর গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে।

তারপর ভিনেগারের বাটি ওভেন থেকে বের করে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে স্পঞ্জ বা পরিষ্কার কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে মাইক্রোওয়েব ওভেনের ভিতর ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করে দিন

৫ – পোরসেলিনের সিঙ্ক পরিষ্কার করার জন্য সিঙ্কের মুখ বন্ধু করে ঈষদষ্ণু পানি ভরে, তার মধ্যে কয়েক টেবিল চামচ ক্লোরিন ব্লিচ মেশান। কিছুক্ষণ পর সিঙ্কের মুখ খুলে দিন।

সিঙ্ক পরিষ্কার হয়ে যাবে। রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর যখন সিঙ্ক ব্যবহার করার আর প্রয়োজন হবে না, তখন এইভাবে পরিষ্কার করুন। পরের দিন সকালে পেপার টাওয়েলে সামান্য ব্লিচ নিয়ে সিঙ্ক মুছে নিন।

৬ – রান্না ঘরের সিঙ্কের তলায় বাথরুমের কোণের মতো জায়গা সব সময় ভিজে থাকে বলে নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। এই সব জায়গায় আলাদা আলাদা ডাস্টবিন রাখুন। ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে না।

৭ – বেকিং সোডা জিনিস পরিষ্কার রাখতে ও গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। কার্পেট, রেফ্রিজারেটর, জুতোর গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা উপকারী। কিছুক্ষণ বেকিং সোডা ছড়িয়ে রাখুন, তারপর ঝেড়ে ফেলুন।

৮ – মেঝে পরিষ্কার করার জন্য এক লিটার পানিতে এক কাপের অর্ধেক পরিমাণ হাইসহোল্ড অ্যামোনিয়া মিশিয়ে ব্যভহার করতে পারেন। মেঝে পরিষ্কার রাখার আর একটা সহজ উপায় হলো পানিতে দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে ওই লবণ পানি প্রতিদিন ঘর মোছার জন্য ব্যবহার করুন।

৯ – কাচের সেন্টার টেবিল বা টি টেবিলে টানা লম্বা আচড়ের মতো দাগ হলে সামান্য টুথপেস্ট দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন।

১০ – প্যানে বা কড়াইতে খাবার পুড়ে গেলে পরিষ্কার করতে খুব অসুবিধা হয়। ওর মধ্যে লিক্যুইড ডিশ সোপ ও পানি মিশিয়ে কিছুক্ষণ গ্যাসে রাখুন। ফুটে উঠলে চুলো বন্ধু করে দিন। কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা হতে দিন। তারপর বাসন পরিষ্কার করুন। পোড়া খাবারগুলো সহজেই দূর করতে পারবেন।

১১ – মাসে অন্তত এক দিন রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার করার জন্য সময় রাখুন। তারপর ঈষদষ্ণু পানিতে সামান্য সাবান গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিটি ট্রে পরিষ্কার করুন। ট্রেগুলো পরিষ্কার করার জন্য কিছুক্ষণ বাহিরে রাখুন। অতিরিক্ত পানি মুছে ফেলুন।

তারপর আবার ট্রেগুলো সেট করুন। এতে ফ্রিজে সাবানের গন্ধ থেকে যাবে না। ফ্রিজের ওপরের অংশে (স্টেইনলেস স্টিল) হাতের ময়লা ছাপ বা খাবারের দাগ লেগে যেতে পারে। তাই এই দাগ তুলতে সমপরিমাণ পানি এবং ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি স্প্রে করে নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। এতে দাগ সহজে উঠে যাবে এবং চকচক করবে।

১২ – অনেক সময় রাথরুমের দেওয়ালে, কোণে বা সিলিংয়ে ছাতা পড়ে যায়। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এবং পানি ৫০:৫০ অুনপাতে মিশিয়ে এইসব জায়গায় স্প্রে করুন। দু’ঘণ্টা বাদে আবার স্প্রে করুন। ২৪ ঘণ্টা বাদে আরো একবার স্প্রে করুন। তবে জায়গাটায় কোনো রকম ঘষাঘষি করবেন না।

১৩ – শোবার ঘরের আসবাব ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করলে ভালো হয়। এ ছাড়া বালিশের কভার, বিছানার চাদর ইত্যাদি ধোয়ার সময় পানির মধ্যে ভিনেগার ও সামান্য পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে পারেন।

১৪ – বসার ঘরের সোফার কভার জীবাণুমুক্ত করতে এর ওপর বেকিং সোডা ছিটাতে পারেন। ৩০ মিনিট রাখার পর সোফার স্যাঁতসেঁতে কভারটি ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার মধ্যে রয়েছে জীবাণু দূর করার শক্তিশালী উপাদান।

১৫ – কাপড়ের জুতা পরিষ্কার রাখার জন্য টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। জুতার ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষুন। ময়লা উঠে যাবে।

১৬ – হাঁড়ির পোড়া দাগ দূর করতে পানি, ভিনেগার দিয়ে গরম করুন। এবার চুলা নিভিয়ে তাতে বেকিং সোডা ঢেলে দিন। এরপর পানি ফেলে দিয়ে নরম ছোবা দিয়ে পরিষ্কার করলে সহজে পোড়া দাগ চলে যাবে।

১৭ – সোফা বা তোষকের গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে ২০মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঝেরে ফেলুন।

১৮ – কল বা ঝরনার ওপর পানি জমে থাকার দাগ দূর করতে ভিনেগার ব্যবহার করুন। একটি পলিথিন ব্যাগে ভিনেগার নিয়ে তা কলের মুখে বেঁধে রাখুন এবং ৩০ মিনিট পর খুলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

১৯ – কার্পেট পরিষ্কার করা খুব কঠিন বিষয়ই বটে। ঘরে কার্পেট থাকলে সেই কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ কার্পেটে ময়লা জমলে হয়ে যায় আরও বেশি দৃষ্টিকটু এবং নোংরা। কার্পেট পরিষ্কারের জন্য ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিয়মিত ব্রাশ দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করলে ধুলো-ময়লা জমার সুযোগ পাবে না। কার্পেটে সামান্য বাই-কার্বোনেট সোডা ছিটিয়ে একটু ঘষে রেখে দিন।

১৫ মিনিট। এরপর এভাপোরেট টুল দিয়ে বা ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিন। ব্যবহার করতে পারেন বিশেষ ‘ড্রাই শ্যাম্পু’ও।

২০ – কাঠ, বাঁশ, বেত বা বোর্ডের তৈরি আসবাব পরিষ্কারে কখনোই পানি ব্যবহার করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে ধুলাবালি দূর করতে শুকনো কাপড় বা মপই যথেষ্ট। মপ মানে, হাতলের মাথায় থাকা গুচ্ছাকার সূক্ষ্ম সুতার দড়িসমেত ঝাড়ু বিশেষ। প্রয়োজনে প্রতি কক্ষে আলাদা আলাদা মপ রাখতে পারেন—খাটের নিচে, দরজার আড়ালে কিংবা বারান্দায়।

২১ – স্টেইনলেস স্টিল ও প্লাস্টিকের আসবাব ধোয়ার ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিই যথেষ্ট। কাঠের তৈরি আসবাব যেমন টেবিল বা বেঞ্চে মার্কার পেনের কালি লেগে গেল, তুলবেন কীভাবে? দাঁত মাজার টুথপেস্ট ব্যবহার করুন, উঠে যাবে।

 

About Health Care Medicine

Check Also

কানে হেডফোন লাগিয়ে বেড়ানোর ভয়ঙ্কর ক্ষতি – Terrible loss of headphones

ঢাকা : স্মার্টফোনে মিউজিক বাড়িয়ে বা এফএম রেডিও চালিয়ে কানে হেডফোন বা এয়ারফোন লাগিয়ে ঘুরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *