Hyperprolactinemia
Hyperprolactinemia

হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া: যে সমস্যার কারনে পুরুষ ও মহিলা অক্ষম হয়ে যায়

Hyperprolactinemia: A problem that causes impotence in men and women: হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া: যে সমস্যার কারনে পুরুষ ও মহিলা অক্ষম হয়ে যায়

হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া কি?

মানুষের রক্তে যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোল্যাকটিন হরমোন থাকে তখন তাকে হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া বলে । মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে প্রোল্যাকটিন হরমোন উৎপন্ন হয়। প্রোল্যাকটিন পুরুষ ও মহিলা উভয়ের দেহে যৌন হরমোনের ( টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন ) মাত্রা কে প্রভাবিত করে।

হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া এর ফলে কি হয়?

১) এ সমস্যা হলে পুরুষ ও মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব বা অনুর্বরতার কারণ হতে পারে।

২) মহিলাদের ওভুলেশন হতে পারে না।এ অবস্থায় মহিলাদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না। মহিলাদের দেহে প্রোল্যাকটিন এর প্রধান কাজ হলো সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুধ নিঃসরণ উদ্বৃত্ত করা। সাধারণত গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার দেহে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় প্রোল্যাকটিন হরমোন থাকে। এই অবস্থায় এটা রোগ হিসাবে গণ্য হবে না।

৩) এ সমস্যার কারণে পুরুষের দেহে LH হরমোন নিঃসরণ কমে যায় , এর ফলে সিরামে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একে মেডিকেলের ভাষায় হাইপোগোনাডিজম বলে। যা পুরুষের লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা /ইরেকটাইল ডিসফাংশন , লস অফ লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া এবং বন্ধ্যাত্ব বা অনুর্বরতার জন্য দায়ী ।

কি কারণে হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া হয় ?

১) প্রধান কারণ হচ্ছে পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি অথবা টিউমার।

২) কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এর উক্তি হতে পারে। যেমন উচ্চ রক্তচাপবিরোধী ওষুধ ( ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ও মিথাইলডোপা ) , ডিপ্রেশন প্রতিরোধী ওষুধ, কিছু কিছু আলসারের ওষুধ, বুক জ্বালা GERD এর ওষুধ। , কিছু কিছু ব্যথা নিবারক ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ, রজঃনিবৃত্তির উপসর্গ ব্যবহৃত কিছু ওষুধ , হাইপোথাইরয়েডিজম এ ব্যবহৃত ঔষধ, রেডিয়েশন থেরাপি ইত্যাদি ।

হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া হলে কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায়?

এ রোগে আক্রান্ত হলে মহিলা ও পুরুষ উভয়ের বন্ধ্যাত্ব বা অনুর্বরতা দেখা দিতে পারে, এছাড়া তাদের যৌন দুর্বলতা, হাড়ের ক্ষয় রোগ, ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।পাশাপাশি মহিলা ও পুরুষদের নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো থাকতে পারে। যেমন-
১) মহিলাদের ক্ষেত্রে
যোনির শুষ্কতা, যৌন মিলনে ব্যথা, মাসিকের সমস্যা যেমন মাসিক না হওয়া বা অনিয়মিত মাসিক, মহিলাদের অসময়ে দুধ নিঃসরন ।

২) পুরুষদের ক্ষেত্রে
লস অফ লিবিডো বা যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন , পুরুষের স্তন বড় হয়ে যাওয়া, দেহের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া।

কিভাবে হাইপার প্রোল্যাকটিনেমিয়া নির্ণয় করব ?

প্রথমত রক্তের প্রোল্যাকটিনের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বেশি হলে পরবর্তীতে রক্তের থাইরয়েড হরমোনের মাত্রাও পরীক্ষা করতে হবে। কারণ হাইপোথাইরয়েডিজম এর ফলে রক্তে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কোন কোন ক্ষেত্রে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড এর আকার ও এতে কোনো টিউমার আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য মস্তিষ্কের MRI করা প্রয়োজন ।

প্রোল্যাকটিনেমিয়া সমস্যার চিকিৎসা কি ?

প্রিয় পাঠক, এই রোগ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার জন্য উপরের লেখাগুলো দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার বিষয়টি আপনি চিকিৎসক এর উপরে ছেড়ে দিন।তেমন কোনো লক্ষণ যদি আপনি দেখেন তাহলে আপনার বাসার কাছের কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে দেখা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজে নিজে চিকিৎসা করা বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে নিজের চিকিৎসা নিজে করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয় । ধন্যবাদ।

লেখক:

ডা: মোঃ ফাইজুল হক

২০ বছরের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসক, শিক্ষক ও লেখক
Gov. Registered Ayurvedic, Unani and Homoeopathic Physician, Ayurved Tirtha
Hijama/ Cupping Therapist
Trained in Cognitive-Behavior Therapy for Depression (DU)
Trained in Therapeutic Counselling
(Department of Clinical Psychology, University of Dhaka)

চেম্বারঃ
বাসা# এ-৩৮/১ , ইসলামপুর , [হাসপাতাল রোড , সরকারি হাসপাতাল এবং খাদ্য গোডাউন মোড়ের মাঝে , আমাবাগান জামে মসজিদের গলী ( চার তলা মসজিদ ) ] , ধামরাই , ঢাকা ।

মোবাইল নাম্বার: 01712 859950 বা, 01972 859950

About healthcaremed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *